ধুলাবালির রাজ্য গাজীপুর মহানগর, বেড়েই চলেছে বায়ুদূষণ

 

মোঃ সোহেল মিয়া,নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরে সারাবছর ধরেই চলছে যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। যার ফলে ধুলাবালি আর ভাঙা রাস্তার ভোগান্তি এখন নিত্য সঙ্গী। এছাড়া শিল্পকারখানার ধোঁয়াসহ ফিটনেসবিহীন গাড়ির কালো ধোঁয়ার ফলে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিআরটি প্রকল্প ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সাসেক প্রকল্প এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিটি আঞ্চলিক সড়কেই রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প চলমান থাকায় এখানে প্রতিনিয়ত বায়ুদূষণ হচ্ছে। যার ফলে মাঝেমধ্যে ধুলাবালিতে পথে হাঁটারও পরিবেশ থাকে না। বায়ুদূষণ এখন গাজীপুরের সব শ্রেণির মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টঙ্গি ব্রিজ থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কে গত কয়েক বছর ধরে চলছে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ। ওই কাজের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে হয়। এতে ব্যাপক ধুলাবালি হচ্ছে। ধুলাবালির কারণে ওই পথে চলাচলকারী ও স্থানীয় মানুষদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে কালিয়াকৈর যাওয়ার পথে নাওজোর, কড্ডা, সফিপুর এলাকায় চলছে সাসেক প্রকল্পের কাজ। সবচেয়ে মারাত্মক রূপ নিয়েছে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে গাজীপুরে প্রবেশের ৪-৫ কিলোমিটার রাস্তায়।

চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম জানান, বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় রাস্তায় চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে। প্রতিদিনই যানজটের সাথে ধুলাবালি। মাঝে মধ্যে ধুলাবালি এতো পরিমাণ বেড়ে যায় যে সামনে থাকা গাড়ি পর্যন্ত দেখা যায় না।
বোর্ড বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ খান বলেন, বিআরটি প্রকল্পের কাজের সময় সড়কে পানি ছিটানোর কথা থাকলেও পানি ছিটানো হচ্ছে খুবই কম। যার কারণে ধুলাবালিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে পুরো এলাকা। দিনে কয়েকবার পানি ছিটানো হলে ধুলাবালি থেকে কিছুটা মুক্তি পেতাম।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক তপন কান্তী সরকার বলেন, প্রতিদিনই হাঁচি-কাশি নিয়ে রোগীরা আসছেন। অ্যাজমা-অ্যালার্জি, সাইনোসাইটিস, গলাব্যথা, শ্বাসতন্ত্রে ক্ষতসহ নানা ধরনের রোগী আসছেন। এসব রোগ বায়ুদূষণের বড় কারণ।

গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, সহনীয় মাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাসমান ক্ষতিকর বস্তুকণা এখনকার বাতাসে আছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিয়ম হচ্ছে রাস্তার কাজ চলার সময়, ওই রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়া। কিন্তু এখানে বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করাও যাচ্ছে না। এখন নিয়মিত সকাল বিকেল পর্যাপ্ত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে যেন ধুলাবালির পরিমাণ কমে যায়। নির্মাণ কাজের ধুলাবালি বাতাসে মিশছে। এতে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি আমাদের নিজেদেরকেও সচেতন থাকতে হবে।

পাঠক মন্তব্য

     More News Of This Category এই বিভাগের আরও খবর

ফেইজবুকে আমরা

error: Content is protected !!