গাজীপুরে বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, এটি ষড়যন্ত্র-মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, মিথ্যে প্রমাণ করুন-আজমত উল্লা খান

গাজীপুর থেকে মোঃ আরিফ মৃধাঃ

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সম্পর্কে কটুক্তি করা নিয়ে গেল ক’দিন ধরে গাজীপুরের রাজনীতির মাঠ উত্তাল রয়েছে।

মেয়রের বিপক্ষ আওয়ামী লীগের একটি অংশ এ নিয়ে রাজপথে মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে আসছে। গেল শুক্রবার গাজীপুর মহানগরীর বোর্ড বাজার এলাকার ইউটিসি চত্বরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসডিজি অর্জন করায় জাতিসংঘ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে ক্রাউন জুয়েল বা মুকুটমণি হিসেবে সম্মানিত করায় মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এর পক্ষ থেকে আনন্দ মিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অপরদিকে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মন্ডল এর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে কটুক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা অপর একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন।

দুই পক্ষের পাল্টা পাল্টি কর্মসূচীর কারণে সংঘর্ষের আশংকায় পূর্ব থেকেই বোর্ডবাজার এলাকায় মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়।বন্ধ করে দেয়া হয় অত্র এলাকার দোকানপাটসহ বিপণিবিতান সমূহ।

এদিকে বিকাল ৫ টার দিকে মেয়র আলহাজ্ব এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হলে হাজার হাজার নেতাকর্মী করতালির মাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে দুই পক্ষ মিছিল বের করলে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মাঝে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মাঝে ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পিছু হটে। এ সময় এই ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে আনন্দ মিছিল ও আলোচনা সভায় সাবেক গাছা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আঃ রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র আলহাজ্ব এ্যাডভেকেট জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মোজাম্মেল হক, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ নয়নসহ অন্যরা। মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিটি কর্পোরেশনে সর্বত্র উন্নয়ন চলছে। সেই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে কটুক্তি করা অডিও রেকর্ড সম্পর্কে মেয়র বলেন,এটি এডিট করে আমাকে সামাজিক ও দলীয় ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের সকল ষড়যন্ত্রের দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে। এটি যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারী দেন মেয়র।

এদিকে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের পর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ৩৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুন মন্ডল বলেন, বঙ্গবন্ধু, মুক্তি যুদ্ধ এবং সিনিয়র নেতাদের নিয়ে কটুক্তি করায় মেয়র জাহাঙ্গীর তার মেয়র পদ সহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। সুতরাং অবিলম্বে তাকে মেয়র ও দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানানে হয় আন্দোলন কারীদের পক্ষ থেকে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে গাজীপুরে দলের সিনিয়র নেতারা প্রথমে নিরব থাকলেও রবিবার বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ্যাডভেকেট আজমত উল্লা খান। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অডিও রেকর্ড টি ভাইরাল হয়েছে সেটি আমরা মনে করি জাহাঙ্গীরের ই বক্তব্য এবং তারই কন্ঠ। যদি সেটি তার না হয়ে থাকে তাহলে সে প্রমান করুক। আর যদি প্রমাণ করতে না পারে তাহলে অবশ্যই তাকে জাতির সামনে এটির ব্যাখা দিতে হবে। কারন এই বক্তব্যের মাধ্যমে সে শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী নয় স্বাধীনতার পক্ষের প্রতিটি মানুষের মনে আঘাত দিয়েছেন।

মেয়রের অভিযোগ রেকর্ড টি এডিট করা হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আজমত উল্লা খান বলেন, আমরা সবাই তার কন্ঠ চিনি। গাজীপুর মহানগরের প্রতিটি মানুষ তার কন্ঠ চিনে। তাই মোটামুটি এটা নিশ্চিত যে এটি তারই কন্ঠ। সুতরাং এটি যে মিথ্যা সেটা তাকেই প্রমাণ করতে হবে। অন্যাথায় অবশ্যই তাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। আজমত উল্লা খান বলেন, দায়িত্বপূর্ণ পদে থেকে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন, আমাদের মহান স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী শহীদদের নিয়ে কটাক্ষ করে সে গর্হিত অপরাধ করেছে। অপরাধ করে এখন সেটিকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।

আজমত উল্লা খান বলেন, শুক্রবারের বোর্ড বাজারের আনন্দ মিছিল ও আলোচনা সভায় সে মানুষকে মিথ্যা প্রতারণা দিয়ে এনেছিলেন। সে মানুষকে এই বলে এনেছিল যে অডিও রেকর্ডিংটি মিথ্যা সেটি সে প্রমাণ করবে। কিন্তু বাস্তবে সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ দেননি বা কোনো কথাই বলে নি। যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে আজমত উল্লাহ খান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইন স্বাধীনভাবে চলে। আইনের স্বাধীনতায় সরকার বিশ্বাসী। সুতরাং যে কেউ ইচ্ছা করলে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। এক্ষেত্রে কিন্তু সাধারণ মানুষও আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

এদিকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে প্রমাণ করতে হবে তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটাক্ষ করেন নি। আর যদি তিনি তা প্রমাণ করতে না পারেন তাহলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ থেকে।

উল্লেখ্য সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও গাজীপুরের সিনিয়র নেতাদেরকে কটুক্তি করা নিয়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এর একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরই ফলশ্রুতিতে গেল কদিন ধরে গাজীপুরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে আসছে মেয়র বিপক্ষ আওয়ামী লীগের একটি অংশ।

পাঠক মন্তব্য

     More News Of This Category এই বিভাগের আরও খবর

ফেইজবুকে আমরা

error: Content is protected !!