দেওয়ানগঞ্জে ইউপি সদস্য কর্তৃক যত্নের নামে অযত্ন (দুর্নীতি)।

এল এফ লিটন সরকার দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধিঃ জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরআমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মতিউর রহমান কর্তৃক যত্ন প্রকল্পের নির্বাচিত উপকারভোগী লংকারচর গ্রামের  মহিলাদের নিকট থেকে পুষ্টির নাম দেওয়া বাবদ বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

জানাযায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এলাকার অতিদরিদ্রদের জন্য “ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর পুওরেষ্ট (ISPP)/ যত্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আয় সহায়ক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এ প্রকল্পের আওতায় রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৭টি জেলার ৪৩টি উপজেলার অতি দরিদ্র পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা নারী, ৫বছরের কমবয়সী প্রথম ও দ্বিতীয় শিশু এবং তাদের মা,দের সুনির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের বিপরীতে নগদ অর্থ প্রদান করা হবে।

এর ধারাবাহিকতায় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরআমখাওয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মতিউর রহমান নিজের কাজ হাসিল করার লক্ষে এসব অতিদরিদ্র গর্ভবর্তী, প্রসূতি ও দুগ্ধদানকারী মায়ে দেরকে দের থেকে দুই লক্ষারধিক টাকা দেবে বলে, বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার ফাঁদ পাতেন। যথারীতি হাতিয়ে নেন এসব অতি-দরিদ্র  মহিলাদের ছাগল বেচা, গরু বেচা, সুদি করা, ঋণ করা সকল টাকা। প্রতিজনের নিকট থেকে নিয়েছে ৪০০০থেকে ৭০০০টাকা করে।
এলাকাবাসী জানান- ইউপি সদস্য মতিউর রহমান প্রত্যেকটি নামের জন্য ৪০০০থেকে ৭০০০টাকা করে নিয়ে তালিকায় নাম উঠিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শুধু মাত্র লংকারচর গ্রামের-ই ৬০থেকে ৭০ জনের নিকট হতে টাকা নিয়েছে মতিউর রহমান মেম্বার, মহিলা মেম্বার সাজেদা বেগম ও টাকা নিয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

সকল মহিলারা  কাঁন্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন- মেম্বারে কইছে ট্যাহা ছাড়া পুষ্টির নাম ওইবোনা, খরচ বাবদ ৫থেকে৭ হাজার করে টাকা লাগবে। করোনাভাইরাসের আগে অতিকষ্টে  হাসমুরগি, ছাগল বিক্রি করে, একবেলা না খেয়ে যত্ন প্রকল্পের টাকা যোগার করে মেম্বার মতিউর রহমানকে ৪/৫ হাজার টাকা করে দেই। দেশে করোনাভাইরাসের কারনে আমরা কষ্টে দিন যাপন করছি। যত্ন প্রকল্প(পুষ্টি) টাকার কোন খবর নেই। আমাদের পুষ্টির টাকার দরকার নেই। আমাদের টাকা ফেরত দিতে হবে।

সাক্ষাতে বলেন- আছিয়া খাতুন স্বামী মফিজ উদ্দিন, মিনারা বেগম স্বামী মোহাম্মাদ আলী, জেসমিন আক্তার, তাহমিনা আক্তার স্বামী মসলিম, রেখা স্বামী তারা মিয়া, রোকিয়া স্বামী নুরনবী, সাবিনা স্বামী তোফাজ্জল, লাকি স্বামী মমিন, শামামা স্বামী হেলাল এরকম  শতাধিক মহিলা সাংবাদিকদের জানায় মতিউর রহমান মেম্বার পুষ্টির নাম করে প্রতোক মহিলার কাছ থেকে ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা করে আদায় করেছে।

চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সামছুল হক সাংবাদিকদের জানান মতিউর রহমান মেম্বারের দূর্নীতির শেষ নেই। তিনি যত্ন প্রকল্পের কথা বলে প্রত্যেক মহিলার কাছ থেকে ৪থেকে৭ হাজার টাকা করে কমপক্ষে ৪ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

আওয়ামীলীগ নেতা আবু হানিফ বলেন, এমন দূর্নীতি করেছে যা অমানবিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মা ও শিশুদের কল্যানে যত্নের টাকা দেবে। টাকা দেওয়ার আগেই যত্নের নামে অযত্নের আবির্ভাব।

সাকোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন- প্রধান মন্ত্রীর ঘোষিত যত্ন প্রকল্প( পুষ্টির) টাকা মহিলাদের দেওয়ার আগে প্রতি মহিলার কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছে। যা দেশ এবং জাতির জন্য বিরাট ক্ষতিকর, এর সাথে আরও কোন কোন মেম্বার জড়িত আছে কিনা তদন্ত করে দূর্নীতিবাজদের আইনের আওতায়  দাড় করানো উচিৎ।

এব্যাপারে মতিউর রহমান মেম্বারকে মুঠো ফোনে জিজ্ঞাসা করলে সে ঘটনার  সত্বতা স্বীকার করে বলেন- এরকম টাকা সবাই নিয়েছে, তাই আমিও নিয়েছি। তবে,  আমি ৬০/৭০ টা নাম বাকি নাম নেতাদের।

চরআমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান আকন্দ এর সাথে যোগাযোগ করলে সে বলেন- মতিউর রহমান মেম্বার টাকা নিয়েছে কি-না, তা আমি জানিনা।

জনসাধারণের মৌখিক অভিযোগ, সঠিক তদন্ত করে পুরো দেওয়ানগঞ্জে উপজেলার সকল ইউনিয়নের তালিকা যাচাই পূর্বক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

     More News Of This Category এই বিভাগের আরও খবর

ফেইজবুকে আমরা

Archive Calendar

error: Content is protected !!