এক মাসে ছিনতাইকারীর ছুড়িকাঘাতে নিহত-২ মহাসড়কের ভয়ংকর ছিনতাইকারীর পাঁচ সদস্য গ্রেফতার

মোঃ কামাল হোসেন বিপ্লব, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে মির্জাপুরের গোড়াই পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের অভয়অরণ্য। করোনার মহামারি শুরুর প্রথম থেকেই তিনটি গ্রুপের ভয়ংকর ছিনতাইকারী সদস্যরা মাথা চড়া দিয়ে উঠেছে। করোনার পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ যখন হিমশিম খাচ্ছিলো, তখন তিনটি গ্রুপের ভয়ংকর ছিনতাইকারীর প্রায় ১৫-২০ জনের সদস্যরা নিরাপদে ছিনতাই করে পার পেয়ে যাচ্ছিল। তিনটি গ্রুপের ভয়ংকর ছিনতাইকারীর সদস্যরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েকটি নিরাপদ পয়েন্টে গত এক মাসে কয়েক শতাধিক যানবাহন, ব্যক্তির কাছ থেকে ছিনতাই করে নগদ অর্থ মালামাল, মোবাইল, স্বণের চেইনসহ মূল্যবান জিনিস ছিনতাই করে চম্পট দিয়েছে। ছিনতাইয়ের সময়ে কেউ সহজে টাকা পয়সা, মালামাল, জিনিসপত্র জোড়াজোড়ি করলে তাদেরকে ছুড়িকাঘাত করে রক্তাক্ত করা হতো।

গত এপ্রিল মাসে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে মির্জাপুরের গোড়াই নামক এলাকায় দুই গ্রুপের ছিনতাকাইকারীর ছুড়িকাঘাতে দুই জন নিহত হয়েছেন। এঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় পৃথক দুইটি হত্যা মামলা হলে পুলিশের টনক পড়ে। কালিয়াকৈর থানার একদল চৌকস পুলিশ সদস্য গত কয়েকদিনে অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী দলের ভয়ংকর পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, উপজেলার চাপাইর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ছিনতাইকারী গ্রুপের লিডার তামিম হোসেন (২৪),একই উপজেলার উত্তর হিজলতলী গ্রামের মাসুম রানার ছেলে ইকবাল হোসেন প্রিন্স(৩০),একই একই উপজেলার কুতুবদিয়া গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে মাসুদ (২২), একই উপজেলার আশাপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সজল(২২) ও সুমন মিয়া (৩২) টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার কামাফাবাড়ী এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। এদের মধ্যে ইকবাল হোসেন প্রিন্স ও সজল গাজীপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবান বন্ধিতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। অপর ৩জনকে গাজীপুর জেল হাজতে প্রেরন করেছে পুলিশ।

এর আগে গত ১ মে এসআই ভজন চন্দ্র রায় অপর আরেকটি গ্রুপের ভয়ংকর ছিনতাইকারীর সদস্য রাজা মিয়া, রঞ্জু মিয়া ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। তবে এই তিনছিনতাইকারী রফিকুল ইসলাম নামের এক প্রাইভেটকার আরোহিকে খুনের কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানান।

কালিয়াকৈর থানার এসআই আব্দুল হাকিম জানান, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এ মহাসড়কে ছিনতাইতাই করে আসছিলো। নগদ টাকা, মোটরসাইকেলসহ যানবাহনের মুল্যবান জিনিসপত্র ভয়ভীতি দেখিয়ে লুট করে নিয়ে যেত। একটি মোটর সাইকেল ছিনতাই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলাকার তিনটি গ্রুপের মধ্যে দুইটি গ্রুপের ভয়ংকর ছিনতাইকারীর সদস্য আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ,ভুক্তভোগি ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ভয়ংকর ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে গত এপ্রিল মাসে দুইজন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে গত ১২ এপ্রিল রাতে বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার করমজা গ্রামের মৃত রমজান আলী মন্ডলের ছেলে রাশেদ মিয়া (১৮)। গ্রামের বাড়ীতে হঠাৎ ষ্টোকে মারা যান রাশেদ মিয়া বাবা রমজান আলী। খবর পেয়ে ওইদিন রাতে রাশেদ টঙ্গীর চেরাগ আলী থেকে রাত ১০টার দিকে রওনা দেন গ্রামের বাড়ীর উদ্যোশে।

কিছুদুর অটো রিক্সায় আবার কিছুদুর পায়ে হেটে যাইতে থাকে রাশেদ। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড় আসান পর উত্তরা লের কোন যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেটেই রওনা দেন রাশেদ। পায়ে হেটে যাওয়ার পর মাকিষ বাথান এলাকায় যাওয়ার পর রাশেদ এ্ই ভয়ংকর ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে সব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে উপযুপরি ছুড়িকাঘাত করে হত্যা করে। পরে লাশ একটি ড্রেনের নীচে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সকালে খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের আতœীয় লিবন মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

অপরদিকে ২৬ মার্চ ভোরে একটি প্রাইভেটকারযোগে টাঙ্গাইল থেকে গাজীপুর যাওয়ার পথে খাড়াজোড়া গোয়ালবাথান ফ্লাইওভার এলাকায় পৌছায়। ভোর ৪টার সময় পাশের জঙ্গল থেকে ভয়ংকর তিন ছিনতাইকারী প্রাইভেটকারের জানালা দিয়ে পেটের বাম পাশে রক্তাক্ত জখম করে মোব্ইাল সেট নিয়ে যায়। পরে তাকে কালিয়াকৈর থানার এস আই ভজন চন্দ্র রায় উপজেলা হাসপাতাল ও পরে শেখ ফজিলাতুনেছা হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ এপ্রিল বিকেলে মারা যান।

গত ৪ এপ্রিল মটর সাইকেল যোগে নাটোর থেকে কোনাবাড়ী যাওয়ার সময় রাত সোয়া আটটার দিকে খাড়াজোড়া রেলওভার ব্রীজে পৌছায়। সেখানে পৌছা মাত্র অপর একটি মোটর সাইকেলে তিনজন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেল গতিরোধ করে চালকের গলায় ধারালো চাপাতি দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিল ঘুষি ও থাপ্পর মেরে মটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরের দিন এ ঘটনায় আবু তাহের থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তৎপর হয়। পুলিশ গত বুধবার ইকবাল হোসেন প্রিন্সকে মটরসাইকেলসহ আটক করেন। প্রিন্সকে গাজীপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেড আদালতে বিচারক নাজমুন নাহরের আদালতে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবান বন্ধি রেকর্ড করেন। সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার ও ঘটনার সাথে জড়িতদের নাম বললে পুলিশ ভয়ংকর ছিনতাইকারীর লিডার তামিম হোসেনসহ গ্রুপের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেন।

কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, করোনার কারণে পুলিশ মানুষকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ছিনতাইকারীরা তৎপর হয়ে উঠে। আমরা দুইটি গ্রুটের আট সদস্যকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছি।ওই সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

     More News Of This Category এই বিভাগের আরও খবর

ফেইজবুকে আমরা

Archive Calendar

error: Content is protected !!