কাঁচামালে ক্ষতিগ্রস্তঃ আটকে আছে ২২১৪ ট্রাক ৩৮ দিন পর জরুরি বৈঠকে বেনাপোলে আমদানি রপ্তানি

খোরশেদ আলম :
দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে স্থলবন্দরে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম। এবার আবার সচল হচ্ছে স্থলবন্দরগুলো। তারই ধারাবাহিকতায় যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে শুরু হচ্ছে আমাদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। বুধবার বিকেলে বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্টের নো-ম্যানস ল্যান্ডে এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দু’দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন।
পেট্রাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী ও বনগাঁ আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি পরিতোষ বিশ্বাস জানান, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মতপার্থক্যের জন্য আগের মতো বাণিজ্য চালু করা যাচ্ছে না। ফলে পাটবীজসহ বিভিন্ন ধরনের পচনশীল পণ্য ও শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল আটকে পড়ায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় পেট্রাপোল বন্দরের ২২১৪টি পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকে আছে ।
বৈঠকে কার্তিক চক্রবর্তী আরও জানান, ভারতীয় ট্রাকচালকরা বাংলাদেশে গেলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখবে পেট্রাপোল পুলিশ। তাই ভারতীয় ট্রাক নো-ম্যানস ল্যান্ড পর্যন্ত যাবে। বাংলাদেশি ট্রাকচালক ও শ্রমিকরা সেখান থেকে মালামাল লোড-আনলোড করে নেবে। এছাড়া সেখানে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান ও গ্লাভসের ব্যবস্থা থাকবে।
বেনাপোল আইসিপি বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আব্দুল ওয়াহাব ও জানান, বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নো-ম্যানস ল্যান্ড ব্যবহার করতে হবে। এ বিষয়ে বন্দরের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান, বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবির তরফদার।
প্রসঙ্গতঃ করোনা পরিস্তিতির কারণে গত ২৩ মার্চ থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে সবপ্রকার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। এ দীর্ঘ সময় পেট্রাপোল বন্দরে সৃষ্টি হওয়া পণ্যবাহী ট্রাকের জট কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল  সি এন্ড এফ এজেন্ট স্টাফ এসোসিয়েশন এর নেতৃবৃন্দসহ বন্দর ব্যাবহারকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সকল নেতৃবৃন্দ।
এই বিষয়ে বন্দরে আমদানি রপ্তানি শুরু বিষয়ে
বন্দর বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আওয়াল হোসেন জানান যে দির্ঘ ৩৮ দিন পর বেনাপোল বন্দরে পন্য আমদানির লক্ষে পন্য নোমাসল্যান্ডে গাড়ী আনলোড হলো অর্থাৎ সি এন্ড এফ স্টাফদের কে বন্দর ও কাস্টমসে যাতায়াত করতে হবে।যশোর জেলা যখন লকডাউন ঘোষণা করা হলো ঠিক সেই সময়ে, প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে প্রবেশ করতে হবে।
এদিকে বেনাপোল কাস্টমস কতৃপক্ষ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় বদ্ধপরিকর।
আবার বাংলাদেশ কে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচাতে এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আমদানির রপ্তানি বানিজ্যের প্রয়োজন আছে। কিন্তু আমরা সি এন্ড এফ স্টাফরা কাজ করবো তাতে আমাদের পার্সেনাল প্রটেক্ট ইকুইপমেন্টের ব্যবস্থা কে দিবে? আমরা যে হাউসে প্রবেশ করবো পর্যাপ্ত করোনা ভাইরাসের সাথে কি নিয়ে যুদ্ধ করবো। তাই আমাদের সিএন্ডএফ এজেন্ট মালিকেরা যাতে সকল স্টাফদেরকে পিপিই প্রদান করত শর্তে তাদের স্ব স্ব অফিস স্টাফদেরকে হোমকোয়ারান্টাইন থেকে কর্মস্থলে পাঠানোর আহ্বান জানান।

     More News Of This Category এই বিভাগের আরও খবর

ফেইজবুকে আমরা

Archive Calendar

error: Content is protected !!