এবার যশোরের বেনাপোলে স্বাস্থ্যকর্মী পর অপর আরো ২জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত

খোরশেদ আলম :

এবার যশোরের বেনাপোলে স্বাস্থ্যকর্মী পর অপর আরো একজন স্বাস্থ্যকর্মী সহ দুইজন করোনা সনাক্ত হয়েছে।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একজন স্বাস্থ্যকর্মী ও অপর জন ইপিআই টেকনিশিয়ান বলে জানা গেছে। আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও টেকনিশিয়ান শার্শার বাসিন্দা। জানাগেছে, আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনে মেডিকেল অফিসার ইনচার্জ হিসাবে ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীদের করোনা সনাক্তের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সাংবাদিকদের জানান, গতকাল রাত্রে তাদের নমুনা পরীক্ষায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরিতে কোভিড-১৯ পজেটিভ আসে। স্বাস্থ্যকর্মী এখন নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই স্বাস্থ্যকর্মী সর্বশেষ বেনাপোল চেকপোষ্ট ইমিগ্রেশনে ও বেনাপোল পৌর বিয়ে বাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে দায়িত্বরত ছিলেন। সেখান থেকে তিনি আক্রান্ত হতে পারেন। এ পর্যন্ত উপজেলায় মোট ৬জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। এতে করে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে সহ এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ নিয়ে নতুন করে যশোরে আরও ১৪ জন করোনা রোগী আক্রান্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টার সুত্রে জানাগেছে, নতুন করে আরও ১৪ জন করোনা রোগী আক্রান্ত হয়েছেন। রোববার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় ল্যাবে যশোরের ৪২টি, ঝিনাইদহের ১৫টি, নড়াইলের ৪টি, মাগুরার ৫টি মিলে সর্বমোট ৬৬টি নমুনার পরীক্ষা করা হয়।যার মধ্যে ২৭টিতে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে-যশোরে ১৪ জন, ঝিনাইদহে ৮জন, নড়াইলে ৩জন ও মাগুরায় ২জন নতুন রোগী রয়েছেন। এই নিয়ে যশোরে সর্বমোট ২৯জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছেন।
এদিকে সারা বাংলাদেশে ২৬ এপ্রিল রবিবারে আইইডিসিআর ( IEDCR) সুত্রে, গত ২৪ ঘন্টায় ৩৪৭৬ জনের নমুনা পরিক্ষা করার পর নতুন করে কভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেনঃ ৪১৮ জন। মৃত্যু হয়েছেঃ ০৫ জন। মৃত ঢাকা মহানগরের বাসিন্দা ৪জন। ঢাকা জেলার দোহার এলাকায় ১ জন। মৃতদের ২ জন নারী, ৩ জন পুরুষ ৬০ বছরের উর্ধে ১জন ৫১- ৬০ বছর ৩ জন ৮ বছরের শিশু একজন( শিশুটি মারত্মক কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিল) সর্বমোট আক্রান্তঃ ৫৪১৬ জন। আক্রান্ত ৬৮% পুরুষ আক্রান্ত ৩২% নারী।সর্বাধিক আক্রান্ত ২১ থেকে ৪০ বছরের মানুষ।সর্বমোট মৃত্যুবরণ করেছেনঃ ১৪৫ জন। মৃত্যু হার ২.৬৭% নুতন করে সুস্থ হয়েছেন ৯ জন অর্থাৎ সর্বমোট সুস্থ হয়েছেনঃ ১২২ জন। প্রকৃত সুস্থ সংখ্যা অনেক বেশী কারন বেশীর ভাগ রোগী বাসায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হচ্ছেন। সেই পরিসংখ্যান এখানে নেই। ৭৩শতাংশ রোগী ঢাকা বিভাগের। এর প্রায় অর্ধেক ঢাকা মহানগরের। এ পর্যন্ত ৬০ জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়েছে। সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি এবং রাঙামাটি জেলায় অদ্যাবধী কোন করোনা রোগী সনাক্ত হয়নি। বর্তমানে ঢাকা শহরের রাজারবাগ, মোহাম্মাদপুর, লালবাগ, যাত্রাবাড়ি, বংশাল, চকবাজার, মিটফোর্ড, উত্তরা, তেজগাও ও মহাখালী এলাকা সবচেয়ে করোনা সংক্রমিত।
আলহামদুলিল্লাহ। আজ সংক্রমণ এবং মৃত্যু হার কিছুটা কমেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। তবে করোনা ভাইরাস ক্রমাগতভাবে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হতে পরিত্রাণ পেতে হলে সতর্কতা অবলম্বন পূর্বক দয়া করে সামাজিক বিচ্ছিন্নকরন (Social distancing), শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঘরে থাকুন।

     More News Of This Category এই বিভাগের আরও খবর

ফেইজবুকে আমরা

Archive Calendar

error: Content is protected !!