যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মী’র পর তার শিশুপুত্র করোনা’য় আক্রান্ত

খোরশেদ আলম : যশোরের শার্শায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫ জনে। শার্শায় প্রথম করোনা রোগী হলেন কয়েক সপ্তাহ আগে ভারত প্রত্যাগত যাত্রীদ্বারা আক্রান্ত বেনাপোল চেকপোস্ট কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়তি রানী বড়ুয়া।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ইউসুফ আলীর দেয়া তথ্যমতে জানা যায়, আক্রান্ত বাকি ৪ জন হলেন নিয়তি বড়ুয়ার শিশুপুত্র, বুরুজবাগান স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাব টেকনেশিয়ান, ঢাকা ফেরত রুদ্রপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর এবং ভারত ফেরত প্রকাশ। তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে আরও ১২ জন করোনা রোগী আক্রান্ত হয়েছে। শনিবার সকালে জিনোম সেন্টারের প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে-যশোরে ৯জন, ঝিনাইদহে ২জন ও নড়াইলে ১জন রোগী রয়েছেন। এই নিয়ে যশোর জেলাতেই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৫ জনে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জিনোম সেন্টারের সহকারি পরিচালক অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, ল্যাবে সর্বশেষ যশোরের ৪১টি, ঝিনাইদহের ২০টি, নড়াইলের ২২টি,মাগুরার ১১টি ও চুয়াডাঙ্গার ১টি মিলে সর্বমোট ৯৫ টি নমুনার পরীক্ষা করা হয়।যার মধ্যে ১২টি’তে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. আবু শাহীন সাংবাদিকদের বলেন, যবিপ্রবি ল্যাবের পাঠানো এসব পজেটিভ রেজাল্টের কোড অনুযায়ী আক্রান্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তাদের অবস্থান জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সারা বাংলাদেশে ২৫ এপ্রিল শনিবারে আইইডিসিআর ( IEDCR) সুত্রে জানাগেছে, গত ২৪ ঘন্টায় ৩৩৩৭ জনের নমুনা পরিক্ষা করার পর নতুন করে কভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেনঃ ৩০৯ জন। মৃত্যু হয়েছেঃ ০৯ জন। মৃত ঢাকার বাসিন্দা ৩জন নারায়নগন্জ ৩ জন দেশের অন্যান্য জেলায় ৩ জন। মৃতদের ৫ জন নারী, ৪ জন পুরুষ ৭০ এর উর্ধে, বয়স ৭ জন ৬০ বছরের উর্ধে, ১জন ৫১- ৬০ বছর। সর্বমোট আক্রান্তঃ ৪৯৯৮ জন। আক্রান্ত ৬৮% পুরুষ আক্রান্ত ৩২% নারী। সর্বাধিক আক্রান্ত ২১ থেকে ৪০ বছরের মানুষ। সর্বমোট মৃত্যুবরণ করেছেনঃ ১৪০ জন। মৃত্যু হার ৩.০০% নুতন করে সুস্থ হয়েছেন কিনা তথ্য জানানো হয়নি। অর্থাৎ সর্বমোট সুস্থ হয়েছেনঃ ১১২জন। ৭৩শতাংশ রোগী ঢাকা বিভাগের। এর প্রায় অর্ধেক ঢাকা মহানগরের। এ পর্যন্ত ৬০জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়েছে।
সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি এবং রাঙামাটি জেলায় অদ্যাবধী কোন করোনা রোগী সনাক্ত হয়নি। বর্তমানে ঢাকা শহরের রাজারবাগ, মোহাম্মাদপুর, লালবাগ, যাত্রাবাড়ি, বংশাল, চকবাজার, মিটফোর্ড, উত্তরা, তেজগাও ও মহাখালী এলাকা সবচেয়ে করোনা সংক্রমিত। আলহামদুলিল্লাহ।আজ সংক্রমণ কিছুটা কমেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। তবে করোনা ভাইরাস ক্রমাগতভাবে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পরছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হতে পরিত্রাণ পেতে হলে সতর্কতা অবলম্বন পূর্বক দয়া করে সামাজিক বিচ্ছিন্নকরন (Social distancing), শারীরিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঘরে থাকুন।

     More News Of This Category এই বিভাগের আরও খবর

ফেইজবুকে আমরা

Archive Calendar

error: Content is protected !!