নোয়াখালীতে করোনা আতংকের মাঝে জীবনের ঝুকিনিয়ে তৃনমূলে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারগন

মোঃ আবদুুল্যাহ রানা, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ-

বাংলাদেশে দিন দিন করোনা রুগি বাড়ছেই। অনেক ডাক্তার ও জনগন হোম কোয়ারেন্টাইনেও আছেন।

সারা দেশের মত নোয়াখালীতেও বিভিন্ন উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে  ডাক্তারদের পাওয়া যাচ্ছেনা। তেমনই চিত্র সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পান কেন্দ্রে আসা গ্রামের অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেব নিরলস ভাবে দিয়ে যাচ্ছে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. ইব্রাহিম খলিল উল্যা।  এমতাবস্থায় গ্রমীন মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য একমাত্র ভরসা, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারগন, এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারগন কর্মরত থেকে সর্বদায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

সারা দেশের চিত্র যখন একইরকম, এ সময়ে ডিপ্লোমা চিকিৎসকগন জীবনের ঝুকিনিয়ে অরক্ষিত ভাবে, তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভও বিরাজ করছে। এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হয়, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব, ডা. মো. নুরুল আমিনের সাথে, তিনি বলেন আমরা সাংগঠনিক ভাবে করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করার জন্য, সবাইকে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর প্রথম পঞ্চম বার্ষিকী পরিকল্পনায় (১৯৭৩-১৯৭৮)এর অংশ হিসাবে সদ্য স্বাধীন দেশে স্বল্প সময়ে স্বল্প খরছে মধ্যমানের চিকিৎসক তৈরির জন্য মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস্) নামক প্রতিষ্ঠানটি  অনুমোদন করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমান। তারপর ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বি.এম.ডি.সি.) আমাদেরকে পেশাগত সনদ প্রদান করে। উল্লেখ্য যে, BMDC  তিন জাতিকে রেজিষ্ট্রেশনদেয় MBBS, BDS,DMF  আমাদের  DMF দের ৩ বছরের একাডেমিক কোর্স শেষে এক বছরের ইন্টার্নী করতে হয়, মোট ৪ বছরের কোর্স শেষে সরকারী, বেসরকারী অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০ হাজার ডিপ্লোমা চিকিৎসক গন কর্মরত আছেন। চাকুরীর পাশা পাশি আমরা প্রাইভেট প্রাক্টিস করি। এই প্রাইভেট প্রাক্টিস আমাদের জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে। একটা শ্রেনী কোন ভাবেই চায়না আমারা সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হই।

তাই নীরবে নিভৃত্বে গরীবের ডাক্তারগন তৃনমূলে জন গনকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। রহিঙ্গা ক্যাম্প সহ যে কোন দূর্যোগে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর সৃষ্ট ডিপ্লোমা চিকিৎসকগন তার সু-যোগ্য উত্তরসূরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার পাশে আছি এবং থাকব।

আমরা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে আমাদের বেদনার কথা জানাতে চাই। আমাদের প্রায় ২৩  হাজার ডিপ্লোমা চিকিৎসক পাস করা আছে, সরকারীতে অনেক পদ শূন্য আছে, শূন্যপদে তাদের নিয়োগ দেয়ার জন্য, আর চাকুরীরতদের গ্রেড পরিবর্তনের  জন্য সরকারের নিকট আহবান জানাব।  তিনি আরো বলেন,  প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৩ জন করে DMF, নিয়োগ দিয়ে  এটি ২৪/৭  চালু রাখার মাধ্যমে জনগনের স্বাস্থ্য সেবা দোড়গোড়ায় পৌছে দিতে সক্ষম।

অবশ্য বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ অনেক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪/৭ নরমাল ডেলিভারী চালু করেছে, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের সমন্বয়ে।         এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা বলি, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন, নোয়াখালী জেলা  শাখার সভাপতি ডা. আবু নাছেরের সাথে তিনি বলেন, সরকারী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ প্রায় ৭ হাজার উপ- সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার জনগনকে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। এছাড়া প্রাইভেট ক্লিনিকে,ও NGO তে প্রায় ২৩ হাজার কর্মরত আছে। ইন্টার্নীরত আছে প্রায় ১১ হাজার।

এরা জীবনের ঝুকিনিয়েই অরক্ষিত অবস্থায় কাজ করে যাচ্ছে। আমি সরকারের নিকট আহবান জানাব যেন সবাইকে PPE  সরবরাহ করে। মাননীয় ডেপুটি কমিশনার ( D.C) নোয়াখালী স্যারকে অনুরোধ করব, এই ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের কাজকে ফুটিয়ে বা দৃশ্যমান করার জন্য, জেলা, উপজেলা স্বাস্থ্য বিষয়ক এবং সমন্বয় কমিটিতে আমাদের প্রতিনিধি রাখার জন্য। কারন আমাদের কথা কেহ বলেনা। কাজ করি আমরা নাম হয় আরেক জনের। মাননীয় সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের স্যারের এলাকায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে তার পৌরভবনে ৩৫ জন প্রবাসীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা  হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য আমরা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গনই  অরক্ষিত অবস্থায় ৮ ঘন্টা করে ডিউটি করে যাচ্ছি। এখানে কোন মেডিকেল অফিসার আসেনি। শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খোজ খবর নেন। এ ছাড়া অত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর জরুরী বিভাগে,  আমরা ২৪ ঘন্টা ডিউটি করি। এ বিপদের দিনে মেডিকেল অফিসারদের পাওয়া যেন সোনার হরিন।

     More News Of This Category এই বিভাগের আরও খবর

ফেইজবুকে আমরা

Archive Calendar

error: Content is protected !!