প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজকে স্বাগত জানালো জামায়াত

করোনাভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজকে স্বাগত জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এই আর্থিক প্রণোদনা যেন ঋণখেলাপিরা না পায় সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

দলটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ সোমবার এক বিবৃতিতে এই প্যাকেজকে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, এই অর্থ ঋণখেলাপিদের দেয়া যাবে না। জনগণের আশঙ্কা জাতির এ দুর্দিনে আর্থিক প্রণোদনার অর্থ কিছু লোভি বড় লোকদের হাতে চলে যায় কি না! কোনো সুবিধাবাদী লোভী বড় লোকেরা পরস্পরের যোগসাজসে যাতে আর্থিক প্রণোদনার অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে যেতে না পারে তা দেখার দায়িত্ব সরকারের। তাছাড়া কারা অর্থ পাবেন এবং যথাযথভাবে আর্থিক প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। আমরা মনে করি সততা ও স্বচ্ছতার সাথে এবং স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করবেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্যাকেজে ডেইরী, পোল্ট্রি ও ফিসারিজসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাত এবং দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠান ও খাতের সহায়তা প্রয়োজন। কৃষিখাতের সাথে দেশের আড়াই থেকে তিন কোটি পরিবার সম্পৃক্ত। তারা একদিকে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ পায়না বরং উচ্চমূল্যে তা কিনতে হয়। অপরদিকে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকেও তারা বঞ্চিত।

বিবৃতিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে লাখ লাখ প্রবাসী আজ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এ দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। অথচ প্যাকেজে তাদের সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি।

দিন আনে দিন খায় এমন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের শ্রম দিয়ে দেশের জন্য কাজ করে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তার প্যাকেজে কিছুই বলেননি।

আমরা মনে করি প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাত এবং প্রবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত। বর্তমান সংকটের সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে আরো বেশি করে প্রান্তিকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো দরকার।

     More News Of This Category এই বিভাগের আরও খবর

ফেইজবুকে আমরা

Archive Calendar

error: Content is protected !!