রাজধানীর দারুস সালাম ও সিলেট থেকে আনসার আল ইসলামের ৩ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪

শহিদুল্লাহ সরকার 
 র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি অভিযানিক দল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল এর নেতৃত্বে গত ১৮ মার্চ ২০২০ তারিখ ১০.৩০ ঘটিকা হইতে ১৯ মার্চ ২০২০ তারিখ ১২.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন এলাকা এবং সিলেট জেলার জৈন্তাপুর এলাকা হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলামের অর্থ শাখার ০৩ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার করেন।
(ক) মোঃ মোতাহার হোসেন @ জামিল হাসান, (৩৪), জেলা- গাজীপুর।
(খ) মোঃ মুরশিদুল আলম @ শিহাদ @ মুরশিদ (৩৩), জেলা- লক্ষীপুর।
(গ) সাইফুর রহমান (২২), জেলা- সিলেট।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলাম এর সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকারোক্তি দেয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ হতে আনসার আল ইসলাম এর বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদী বই, লিফলেট, ডিজিটাল কনটেন্টসহ মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মোঃ মোতাহার হোসেন @ জামিল হাসান (৩৪) কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, তিনি আনসার আল ইসলামের নরসিংদী জেলার আমির পর্যায়ের একনিষ্ঠ সদস্য। বর্তমানে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসার আল ইসলাম এর টাকা কালেকসনের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিভিন্ন কর্মীর মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা করে দেশে ও বিদেশে আনসার আল ইসলামের সদস্যদের নিকট টাকা সরবরাহের জন্য ২ বছর ধরে বিদেশে অবস্থানরত আবু জান্দাল নামক ব্যাক্তির কাছে টাকা পাঠাচ্ছেন। তার কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ৪/৫ লক্ষ টাকা পাঠানোর তিনটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। সে দেশের ভিতরে এবং বাহিরে জঙ্গী অর্থায়নের সাথে জড়িত। তার সাথে দেশ-বিদেশের জঙ্গী গোষ্ঠীর যোগাযগের প্রসার পাওয়া গেছে। ফেসবুক ছাড়াও বিভিন্ন এ্যাপস্ এর মাধ্যমে জঙ্গি কার্যক্রম চালু রাখেন। তিনি আনসার আল ইসলাম এর শীর্ষ নেতাদের সাথে অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচিত হন এবং নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে বিভিন্ন উগ্রবাদী ডিজিটাল কন্টেন্ট পাওয়া গিয়েছে।
 গ্রেফতারকৃত মোঃ মুরশিদুল আলম @ শিহাদ @ মুরশিদ (৩৩) আনসার আল ইসলামের একজন সক্রিয় সদস্য। সে আনসার আল ইসলামের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে টাকা কালেকসন করে সামের দেশে টাকা পাঠানোর দায়িত্বে নিয়োজিত আছে। সে বিভিন্ন এ্যাপস্ ব্যবহার করে আনসার আল ইসলাম এর শীর্ষ নেতাদের সাথে অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচিত হয় এবং নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে। তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে বিভিন্ন উগ্রবাদী ডিজিটাল কন্টেন্ট পাওয়া গিয়েছে। আসামী মোঃ মোতাহার হোসেন @ জামিল হাসান ও মোঃ মুরশিদুল আলম @ শিহাদ @ মুরশিদদ্বয়কে রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন দারুস সালাম টাওয়ারের সামনে হতে গ্রেফতার করা হয়।
 গ্রেফতারকৃত সাইফুর রহমান (২২) আনসার আল ইসলামের একজন সক্রিয় সদস্য। তার ভগ্নীপতি লোকমান আহমেদ @ আবু জান্দাল (৩২) দেশের বাহিরে অবস্থানরত আনসার আল ইসলাম এর অন্যতম সদস্য। সে প্রবাসে অবস্থান করে বাংলাদেশের আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন সদস্যদের কাছ থেকে টাকা/চাঁদা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সংগ্রহ করে শ্যালক সাইফুরের কাছে জমা রাখে। সাইফুর রহমান জমাকৃত টাকা বিদেশে তার ভগ্নীপতির নিকট পাঠায়। তার ভগ্নীপতি লোকমান @ জান্দাল উক্ত টাকা আনসার আল ইসলামের সদস্যদরে নিকট প্রেরন করে জঙ্গী কাজে সহায়তা করে। আনসার আল ইসলাম এর শীর্ষ নেতাদের সাথে সে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে। গ্রেফতারকৃত জঙ্গি মোঃ মোতাহার হোসেন @ জামিল হাসান ও মোঃ মুরশিদুল আলম @ শিহাদ @ মুরশিদদ্বয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাবের লিংক ধরে সাইফুর রহমান’কে সিলেট এর জৈন্তাপুর হতে গ্রেফতার করা হয়।
  আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, কথিত খেলাফত প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতাকারীদের উপর তারা আকস্মিক আক্রমন করে কঠোর শাস্তি বা টার্গেট কিলিং করে থাকে। নিয়মিত ভাবে তাদের সদস্যদের কাছ থেকে মেহেনতের মাধ্যমে ইয়ানত সংগ্রহ করে। এই দলের সদস্যরা এন্ড্রয়েট মোবাইল বা ল্যাপটপ এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রটেক্টিভ এ্যাপস্ ব্যবহার করে বিভিন্ন গোপন গ্রুপ তৈরী করে উগ্রবাদী সংবাদ, বই, উগ্রাবাদী ব্লগ, উগ্রবাদ উৎসাহ মূলক ভিডিও আপলোড ও শেয়ার করে নিয়মিত নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল। উল্লেখিত ৩ জন আনসার আল ইসমলাম সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা আনসার আল ইসমলামের অপরাপর সদস্যদের কাছ থেকে  চাঁদা সংগ্রহ  করে জঙ্গি সংগঠনে অর্থ সরবরাহ করে আসছিল।
 গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

     More News Of This Category এই বিভাগের আরও খবর

ফেইজবুকে আমরা

Archive Calendar

error: Content is protected !!