ক্যাসিনো ভাড়া দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংকে লোকমানের ৪১ কোটি!

ক্লাবে ক্যাসিনো ভাড়া দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। অস্ট্রেলিয়ার দুটি ব্যাংকে তাঁর ৪১ কোটি টাকার তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। আটক করার পর র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছেন লোকমান।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদের নেতৃত্বেই মোহামেডান ক্লাবে চলত ক্যাসিনো ব্যবসা। গত বুধবার রাতে মনিপুরীপাড়ায় লোকমানকে তাঁর বাসা থেকে আটক করার সময় পাঁচ বোতল বিদেশি মদ পাওয়ার ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় মামলা করেছে র‌্যাব। মোহামেডান ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগও আনা হচ্ছে লোকমানের বিরুদ্ধে।

এদিকে লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতকাল এনবিআরের গোয়েন্দা শাখা সিআইসি থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে লোকমান হোসেনের হিসেবে কারা অর্থ জমা ও উত্তোলন করেছে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

গতকাল র‌্যাব সদর দপ্তরে র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ক্যাসিনো ব্যবসা করে বিসিবির পরিচালক ও  মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ৪১ কোটি টাকা আয় করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। এ টাকা অস্ট্রেলিয়ার দুটি ব্যাংকে গচ্ছিত রেখেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘কাউন্সিলর সাঈদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন লোকমান। তাঁর সঙ্গে ক্যাসিনো ব্যবসায় যে লেনদেন সেটাও প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। ক্যাসিনোর ভাড়া বাবদ মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা পেতেন লোকমান।’

এক প্রশ্নের জবাবে লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, লোকমানের বাসায় অনুমোদনবিহীন পাঁচ বোতল বিদেশি মদ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে তেজগাঁও থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। লোকমানের বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ার এএনজেড ও কমনওয়েলথ ব্যাংকে লোকমানের ৪১ কোটি টাকা গচ্ছিত আছে।

গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই মনিপুরীপাড়ায় লোকমানের বাসার ওপর নজর রাখছিল র‌্যাব। মধ্যরাতে বাসায় ঢুকে লোকমানকে আটক করে র‌্যাব-২ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। গত রবিবার মতিঝিলে মোহামেডান ক্লাবে অভিযান চালায় পুলিশ। ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবে দুটি রুলেট টেবিল, ৯টি বোর্ড, বিপুলসংখ্যক কার্ড, ১১টি ওয়্যারলেস সেট ও ১০টি বিভিন্ন ধরনের চাকু পাওয়ার কথা জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

লোকমান দাবি করে আসছিলেন, ‘রাজনৈতিক চাপের’ মুখে তিনি জুয়ার জন্য ক্লাবের ঘর ভাড়া দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

গতকাল র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেন, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালনা কমিটি একটি রেজ্যুলেশনের ভিত্তিতে কক্ষ ভাড়া দেয়। অবৈধ ক্যাসিনোর জন্য মমিনুল হক সাঈদকে কক্ষ ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে পরিচালনা কমিটির আর কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যুবলীগের নেতা সাঈদ আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি। তিনি ক্যাসিনো বাণিজ্যে জড়িত। লোকমান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। বিসিবির সদস্য হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

     More News Of This Category এই বিভাগের আরও খবর

ফেইজবুকে আমরা

error: Content is protected !!